বর্ষায় সেচ মেশিন দিয়ে পুকুর সেচ: হিজলার কাউরিয়া বাজার সড়ক বিলীনের পথে, চরম ঝুঁকিতে জনজীবন
আইন ও প্রকৃতির নিয়মকে তোয়াক্কা না করে ভরা বর্ষা মৌসুমে সেচ মেশিন দিয়ে পুকুর শুকানোর খামখেয়ালিপনায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে বরিশালের হিজলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাউরিয়া বাজারের প্রধান সড়কটি। উপজেলার ৩ নং গুয়াবারিয়া ইউনিয়নের এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই ভেঙে পুকুরগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে।
ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে হাজারো মানুষের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন কাউরিয়া বাজারে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই পাকা রাস্তাটি। বাজারের পাশেই অবস্থিত একটি বড় পুকুর লিজ নিয়ে মাছের ব্যবসা করছেন স্থানীয় দুলাল বাবুর্চি নামের এক ব্যক্তি। চলতি বর্ষা মৌসুমে যখন চারদিকে পানিতে থৈ থৈ করছে, ঠিক তখনই তিনি শক্তিশালী সেচ মেশিন বসিয়ে পুকুরটি পুরোদমে শুকিয়ে ফেলার কাজ চালাচ্ছেন। এমনেই বর্ষার দিন, তার ওপর দুলাল বাবুর্চি জোর কইরা মেশিন দিয়া পুকুরের সব পানি সেইছা ফালাইতেছে। পানির টানে আমাগো হাটার রাস্তাডা ভাইঙা পুকুরে পইড়া যাইতেছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা বাধা দিলেও হেরা শোনে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে প্রবল বর্ষণ আর অন্যদিকে সেচ মেশিনের তীব্র টানে পুকুরের পাড় ধসে পড়ছে। পুকুর পাড়ের মাটি সরে যাওয়ায় পাশের পাকা সড়কটিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং রাস্তার একাংশ ধসে পড়েছে।
সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাউরিয়া বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এক ব্যক্তির ব্যবসায়িক স্বার্থ ও খামখেয়ালিপনার মাশুল দিতে হচ্ছে পুরো এলাকার মানুষকে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ পানি নিষ্কাশন বন্ধ করার এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।